ন্যূনতম সংস্কার করে এবং আরও সংস্কারের শর্ত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়া উচিত

 4458847

 বর্তমান সরকারের ন্যূনতম সংস্কার করে এবং আরও সংস্কারের শর্ত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়া উচিত


4458847


গত ২৬ ডিসেম্বর চব্বিশের ছাত্র–জনতার আন্দোলন এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে এক আলোচনায় এসব কথা উঠে এসেছে। আলোচনার আয়োজন করে প্রথম আলো। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ওই আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আন্দোলনকর্মী ও তরুণ গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ। আলোচনা সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ

সাজ্জাদ শরিফ

নানা ঘটনায় ভরা পুরোনো বছর বিদায় নিচ্ছে। আসছে সম্ভাব্য ঘটনাবহুল নতুন আরেকটি বছর। যে পাতানো নির্বাচনী ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ২০২৪ সাল শুরু হয়েছিল সে রকম একটি নির্বাচন দিয়ে। কিন্তু সেই একতরফা নির্বাচনের পর সরকার একটি বছরও শেষ করতে পারল না। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান হলো। শেখ হাসিনা পালালেন। তাঁর সরকার শিঁকড়সুদ্ধ পড়ে গেল। রাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকেরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া এত বড় ঘটনা বাংলাদেশে কখনো ঘটেনি। নানা স্তরের এত বিপুল লোকও কোনো আন্দোলনে অংশ নেয়নি। এই গণ–অভ্যুত্থান রাষ্ট্র, রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে অনেক নতুন প্রশ্ন হাজির করেছে। দেখার মতো বহু দরজা খুলে গেছে আমাদের সামনে। নাগরিকেরা এসব নিয়ে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক করছেন। আমরাও নতুন বছরের সন্ধিক্ষণে আলোচনায় বসেছি।

উমামা ফাতেমাকে দিয়েই শুরু করি। আপনি তরুণ প্রজন্মের সদস্য। গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের আন্দোলনে বহু মানুষ যুক্ত হলো। অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতি তৈরি হলো। রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজ নিয়ে আপনাদের স্বপ্নটা কী?

উমামা ফাতেমা

অভ্যুত্থানের সময় আমরা অনেক আশাবাদী ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন। অভ্যুত্থানের পর মনে হচ্ছে, সব মানুষ আসলে একই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আসেননি। প্রত্যেকে আস্তে আস্তে তার এজেন্ডা অনুযায়ী সরে যাচ্ছে। চিন্তার এই বৈচিত্র্য অভ্যুত্থানের সময় এতটা চোখে পড়েনি।

জুলাইয়ে যা ঘটেছে, তা হলো মানুষের চূড়ান্ত হতাশা ও বিষণ্নতার বিস্ফোরণ। ১৫ বছর ধরে এখানকার রাজনৈতিক ব্যবস্থা একদমই রুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। এখন আমার মনে হয়, আমাদের শান্ত, স্থির এবং অনেক বেশি সুসংহত হওয়া উচিত। অভ্যুত্থানের সময় দেশটাকে টিকিয়ে রাখতে চাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা আমাদের মধ্যে ছিল, তার ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে আমি তখনই সফল মনে করব, যখন দেশের কৃষক থেকে ধনী পর্যন্ত সবার মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য আসবে, সবার সমান সামাজিক নিরাপত্তা থাকবে।

সাজ্জাদ শরিফ

নানা গোষ্ঠী ও মানুষের নানা বাসনা আন্দোলনের সময় হাসিনার সরকারের পতনের দাবিতে এসে মিলে গিয়েছিল। কারণ বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠীর বাসনা সরকার আর পূরণ করতে পারছিল না। তরুণেরাও তাদের বাসনা নিয়ে আন্দোলনে এসেছিলেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে হুযাইফা কি বলবেন আন্দোলনের পেছনে তরুণদের বাসনা কী ছিল?

মীর হুযাইফা আল মামদূহ

জাহেদ উর রহমানের কাছে আসি। গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রায় চার মাস পার হলো। বিপুল প্রত্যাশার বিপরীতে এই সময়ে আমরা ভাবাদর্শ ও রাজনীতির নানা মেরুকরণ দেখছি। কোনো কোনো পক্ষকে পরস্পরের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতেও দেখছি। কখনো কখনো মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি মীমাংসার অতীত। আপনি এই সময়টাকে কীভাবে দেখছেন?

রাজনৈতিক দল ছাড়া যেহেতু রাজনৈতিক ব্যবস্থা চলবে না, সে কারণে নির্বাচনের সংস্কার চাইলে রাজনৈতিক দলের ভেতরেও সংস্কারকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

জুলাই আন্দোলনের সময় তরুণেরা বলছিলেন, আমরাই বিকল্প। প্রত্যেকেই নিজের দক্ষতা ও প্রতিভার জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করার কথা বলছিলেন। আমরা তরুণেরা একটা সুন্দর দেশ চেয়েছি, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ পরিচয় নিয়ে সুন্দরভাবে বসবাস করবে। কেউ বঞ্চনার শিকার হবে না। সর্বত্র ন্যায্যতা থাকবে। কেউ কাউকে দমিয়ে রাখবে না। পরে দেখলাম, যাঁরা আন্দোলনে ছিলেন এবং পরে উপদেষ্টা হলেন, তাঁদের জন্য বড় বড় গাড়ি এল। তাঁরা কেউ সেটা প্রত্যাখ্যান করলেন না। আমি এতে খুব আহত হয়েছি। আমার মনে হয়েছে, একটা বদল আমাদের দরকার ছিল।

সাজ্জাদ শরিফ


Comments

Popular posts from this blog

সংবিধান বাতিল করলে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হবে: রুহুল কবির রিজভী

লোহাগড়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শুরু থেকে শেষ: যেভাবে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল