বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে কেন?

 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে কেন? 



বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাস অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে সময়ের সাথে, এবং বেশ কিছু কারণ আছে যার কারণে বর্তমানে সম্পর্কের অবস্থা তলানিতে পৌঁছেছে।

১৯৪৭ - ১৯৭১:

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের শুরু ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশের পর। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পর, বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। তবে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সমর্থন দেয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়। এই সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভারত বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিল।

১৯৭১ পরবর্তী সম্পর্ক:

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো ছিল, বিশেষত সীমান্ত সমস্যা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে। ১৯৭২ সালে 'বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলে।

১৯৯০ এর দশক:

১৯৯০ সালের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কিছু অমিল দেখা দেয়। ভারতের আন্তর্জাতিক পলিসি এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কিছু দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ২০০০ সালের পরে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হতে শুরু করে, তবে ২০১০ এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বর্তমানে সম্পর্কের অবনতি:

বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল কারণগুলো নিম্নরূপ:

  1. সীমান্ত সমস্যা: ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে বহু সমস্যা রয়েছে, যেমন সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, নদীর পানি বণ্টন ইত্যাদি। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

  2. রোহিঙ্গা ইস্যু: ভারত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন না করার কারণে কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভারত, মিয়ানমারের সাথে সম্পর্কের কারণে এই ইস্যুতে সঠিক সমাধান এখনও পাওয়া যায়নি।

  3. নদী পানি বণ্টন: ভারত ও বাংলাদেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সমস্যায় রয়েছে, যেমন তিস্তা নদী। ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়া সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।

  4. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষত বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা, ভারতকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একে অপরকে দায়ী করতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সময়ে ভারতের সমর্থন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

  5. ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উত্থান, বিশেষত বিজেপির শাসনামলে, বাংলাদেশের মুসলিম জনগণের প্রতি ভারতীয় মনোভাবের পরিবর্তন সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সমস্যার সমাধান:

সম্পর্ক উন্নত করতে ভারতের উচিত বাংলাদেশকে তার প্রতিবেশী এবং দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে শ্রদ্ধা দেখানো। তাছাড়া, বাংলাদেশের উচিত ভারতের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা, এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতার সুযোগ খোঁজা।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এই সব সমস্যাগুলোর সমাধানে নির্ভর করবে।

Comments

Popular posts from this blog

সংবিধান বাতিল করলে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হবে: রুহুল কবির রিজভী

লোহাগড়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শুরু থেকে শেষ: যেভাবে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল